Chaitanya, the first figure of the Bengal Renaissance.
বাংলার জাগরণের দুই অধ্যায় ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা
পার্থসারথি চৌধুরী
জাগরণ শব্দটির মধ্যে উজ্জীবন ও ফিরে দেখা, পুরনোকে নতুন করে বা সময়োপযোগী করে দেখার এক মহৎ প্রবৃত্তি আমরা লক্ষ্য করি। তাছাড়াও ঐতিহাসিক ছন্দে ও কাল-পরিক্রমায় ‘জাগরণ’ মানুষকে সব কিছুকেই নতুন করে ভাবাতে শেখায়। প্রচলিত নিয়ম ও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে মানুষ নানাভাবে প্রশ্ন করে। এভাবেই শুরু হয় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও ‘জাগরণের’ ঐতিহাসিক নির্মাণ। বাংলাদেশে পঞ্চদশ ও উনিশ শতকে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জগত ভীষণ ভাবে আলোড়িত হয়েছিল। প্রথমটি শ্রী চৈতন্যের বৈষ্ণব আন্দোলনের মাধ্যমে ও দ্বিতীয়টি রামমোহনের হাত ধরে। পরবর্তীতে আরও অনেক মানুষ একে নানা ভাবে বিকশিত করেছেন, তবে উনিশ শতকের জাগরণের বিকাশ ও পরিণত পর্বে নানা বৈপরীত্যের কথা আমরা জানি, সেই ইতিহাস পর্যালোচনা করার জায়গা এটা নয়, এ বিষয়ে বহু গবেষণা সন্দর্ভ প্রকাশিত হয়েছে। আমি আমার আলোচনা মূলত: এই দুই জাগরণের চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করব। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষ বিশেষত নারী, পুরুষ ও মানবতার অবস্থান কি ভাবে নির্ণীত হয়েছে তাই দেখার বিষয়। তবে জাগরণ সম্পর্কিত আলোচনায় স্বাভাবিক ভাবে ইউরোপের চতুর্দশ শতাব্দীর নবজাগরণের কথা-ও এসে পড়ে, তাই, চতুর্দশ শতাব্দীর ইউরোপের নবজাগরণের কথা কিছুটা হলেও বলতে হয়।
চতুর্দশ শতাব্দীর ইটালির নবজাগরণ, একটু ফিরে দেখা
এ কথা স্বীকৃত সত্য যে নবজাগরণ ছিল মানুষের মুক্তির অগ্রদূত, এই মুক্তির চেতনাই ছিল যুগান্তরের বোধন। এই নব্য ধ্যানধারণাই মানুষকে এই বিশ্বাসে সম্মিত করে দিয়েছিল যে দৈব বা অলৌকিক কোন শক্তি নয়, সে নিজেই তার ভাগ্যের এবং, যে পৃথিবীতে সে বাস করে, তাকে নিয়ন্ত্রিত করতে সক্ষম। রেনেসাঁস ছিল এই আত্ম উদ্বোধনের নামান্তর, দৈব বর্জনের সংকল্প, বহুধা বিস্তৃত অনুপ্রাণিত অনুসন্ধানের উৎস। মানুষের মূল্যবোধের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে, মৌলিক নন্দনতত্ত্বকে জীবনের এক অচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত করে, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদকে বাস্তব করে তুলে মানুষকেই বিশ্ব ও প্রকৃতির কেন্দ্রে স্থাপন করার এক অত্যাশ্চর্য সাধনা হয়ে ওঠে। মানুষ-ই অনন্ত সম্ভাবনাময়- এই প্রত্যয় রেনেসাঁস অধ্যায়ের মানুষের মনে ছিল সুস্পষ্ট।
ধর্মের শৃঙ্খল থেকে মানুষ মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল এটাই ছিল শাশ্বত সত্য। তবে নবজাগরণ সংস্কৃতি ধর্ম বিযুক্ত ছিল এ কথা বোধহয় বলা যাবে না। নবোদ্ভুত আন্দোলনে পোপেরাও যোগদান করেছিল। ১ রেনেসাঁসের শিল্পীরা যে ছবি আঁকলেন তা তো ধর্মের পুনরুজ্জীবন ছাড়া আর কিছু নয়। চার্চের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তারা ত ছবি আঁকতে পারতেন না, তারা কি ছবি এঁকেছিলেন, ‘ঘোষণা’ ‘ক্রুশারোহন’, শেষভোজ-র মত ছবি, এসব দেখে বলা সম্ভব নয় যে, রেনেসাঁস ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে আধুনিকতার দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। ২ । রেনেসাঁস সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যে সব বুদ্ধিজীবী (যারা মানবতাবাদী নামে খ্যাত) এগিয়ে এসেছিলেন তারাও কিন্তু চার্চের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন নি, বরঞ্চ বলা যেতে পারে যে চার্চের আশীর্বাদ ধন্য হয়ে শেষ জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ( এই বিষয়ে আমরা বাংলার নবজাগরণ সৃষ্ট বুদ্ধিজীবীদের অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পাই, এ সম্পর্কে আলোচনা পরবর্তীতে করব )। যেমন পোস্ত্রী, লিওনার্দো ব্রুনি, এরা পোপের দেওয়া চাকরি গ্রহণ করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন। রেনেসাঁস মানবতাবাদের যিনি উদগাতা পেত্রার্ক বলতেন, “একজন দার্শনিক হবেন আপাদমস্তক ঈশ্বর প্রেমিক” ৩
ইউরোপীয় নবজাগরণের সবচেয়ে বড় অবদান তার মানবতাবাদ। এই মানবতাবাদ ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে অনেকটাই বদলে দিয়েছিল, কারণ এই প্রথম মানুষ, মানুষ হিসেবে তার মর্যাদা পেতে শিখল। এই সাংস্কৃতিক আবহ নির্মাণে যারা মূলত: সহযোগিতা করেছিলেন তারা হলেন রেনেসাঁস বুদ্ধিজীবী। এই রেনেসাঁস বুদ্ধিজীবীরা যারা মানবতাবাদী হিসেবে পরিচিত হলেন তারা সকলেই ছিলেন শ্রেণীচ্যুত ও জনবিচ্ছিন্ন।৪ এরা সকলেই বিত্তবান ও বনিক শ্রেণির ছত্রছায়ায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছিলেন। রেনেসাঁসের আগমনে ইটালির যে সব বনিক কুল বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেছিল, এরা তাদের-ই ভজনা করত, এদের সহযোগিতা ছাড়া কোন গত্যন্তর ছিল না। এদের বিদ্যা চর্চা সাধারণ মানুষকে কোনভাবে স্পর্শ করে নি, এদের সম্পর্কে বলা হোয় ‘এরা বিদ্বান, কোন কাজের লোক নন’। ৫ এদের বিদ্যাচর্চা ও জ্ঞান চর্চা সাধারণ মানুষকে কোন ভাবেই স্পর্শ করে নি। এদের সংস্কৃতি ছিল উপর তলার সংস্কৃতি, উচ্চবিত্ত সম্প্রদায় মূলত: এই সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ‘জ্ঞানের রাজ্যে রেনেসাঁস বিপ্লব এনেছিল সন্দেহ নেই, তা কোন ভাবেই সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করতে পারে নি’। ৬ রেনেসাঁস ঐতিহাসিক বুর্খহার্ডট বলেছেন যে, রেনেসাঁস নারী জাতির উন্নতি কল্পে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।৭ কিন্তু গবেষণা সন্দর্ভ থেকে জানা যায় যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন পরিবেশ মহিলাদের জন্য ছিল না। তা ছাড়া সকল দার্শনিক থেকে বুদ্ধিজীবী সকলেই নারীদের ভূমিকাকে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন। তারা কখনো-ই মনে করেন নি যে, নারী সমাজের বিশেষ একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ। তাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠার দিকে কেউ নজর দেয় নি। নারী ঘর সামলাতেই বেশী ব্যস্ত থাকত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ধারায় তাদের যুক্ত করার কোন ভাবনা হয় নি, অর্থাৎ আমাদের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, চতুর্দশ শতাব্দীর নবজাগরণ বা রেনেসাঁস আক্ষরিক অর্থে সাধারণ মানুষ ও নারীর স্বার্থে বা তাদের ঐতিহ্যগত নির্বাসন নিরসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নি।৮
উনিশ শতকের বালার নবজাগরণ, সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা
উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণ এর থেকে ব্যতিক্রমী কোন ইতিহাস রচনা করতে পারে নি। বাংলার এই নবজাগরণ তার সীমাবদ্ধতা ও চরিত্র নিয়ে বহু তর্ক বিতর্ক হয়েছে ও হচ্ছে। মার্কসবাদী ও জাতীয়তাবাদী সকলেই এই বিতর্কে অংশ নিয়েছেন, তারা তাদের মত করে নবজাগরণকে দেখেছেন, সকলেই তাদের রাজনৈতিক অনুজ্ঞাকে তাদের মত করে প্রশ্রয় দিয়েছেন, এর ফলে সাধারণের কাছে আসল সত্য অন্তর্হিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের উনিশ শতকের নবজাগরণের চরিত্রের নির্মম সত্য কিছুটা হলেও উদঘাটন করা দরকার। উনিশ শতকের নবজাগরণ আমাদের সামন্ততান্ত্রিক সমাজের ক্ষমতা বিন্যাসের যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলি ছিল যেমন যৌথ পরিবার, জাতিভেদ প্রথা, বিবাহ প্রথা ও ধর্ম ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলিকে কোন ভাবেই ধ্বংস করতে পারে নি।৯ এই কারণে মধ্যযুগে রামানন্দ, নানক, কবির দাদু, নাম-দেব প্রমুখ সাধক সংস্কারকদের জাতি-বৈষম্য ও ধর্মভেদের বিরুদ্ধে সমস্ত আবেদন আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে, অর্থাৎ তাঁদের ভাবাদর্শের কোন প্রসার হয় নি, তেমনি উনিশ শতকে বাংলাদেশে রামমোহন, বিদ্যাসাগর ইয়ংবেঙ্গল দেবেন্দ্র-নাথ প্রমুখ সংস্কারকদের পাশ্চাত্ত্য ভাবসংঘাতজাত উন্নতিশীল সংস্কার-আদর্শের বিস্তার-ও অনেকটা সংকুচিত হয়েছে।১০ এই কারণে দেখা যায় যে, উনিশ শতকের নবজাগরণ মূলত: নগর কেন্দ্রিক পাশ্চাত্ত্য বিদ্যা শিক্ষিত মুষ্টিমেয় এলিটদের মস্তিষ্কের আন্দোলন, দেশের মানুষের আন্দোলন নয়। আরও একটি কথা এখানে উল্লেখ করতে হয় তা হোল তদানীন্তন সময়ে রামমোহনের মত মানুষ জাতিভেদ প্রথার বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সমসাময়িক প্রধান ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার ভয়ে প্রকাশ্যে একে বর্জন করতে পারেন নি, এমনকি পরবর্তীকালে ব্রাহ্ম নারীমুক্তির ব্যাপার থেকে নিজেকে সরিয়ে এনেছিলেন।১১ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হোল, এই নবজাগরণের বাংলার গ্রাম ও মফঃস্বলের সঙ্গে কতটা যোগ ছিল, উত্তর, কোনভাবেই নয়।১২ যারা বিপ্লবী হয়ে সমাজ পরিবর্তন করতে এলেন(ইয়ং বেঙ্গল) তারাও নৈরাজ্য বাদী ঢঙে প্রচলিত সব সামাজিক বিধিনিষেধ ও ধর্মীয় কুসংস্কার ভাঙবার দুঃসাহস দেখালেও, এই গোষ্ঠীর-ই কৃষ্ণমোহনকে শেষ পর্যন্ত খৃষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হতে হয়, দক্ষিনারঞ্জনকে টিকি রেখে পরম ব্রাহ্মণ সাজতে হয়, রাম-গোপালকে চরম রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে খৃষ্টান ধর্মের হাত থেকে হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করার জন্য হিন্দু হিতার্থী বিদ্যালয় স্থাপন করতে হয়। অধ্যাপক সুমিত সরকার ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন ও তার সভ্যদের অন্তিম দশা ও পশ্চাদপসরণ নিয়ে তার ‘complexities of the Derozians’ প্রবন্ধে বিস্তারিত ভাবে বলেছেন।
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পঞ্চদশ শতাব্দীতে চৈতন্য প্রবর্তিত বৈষ্ণব ধর্মের নেতৃত্বে বাংলার জাগরণের প্রসঙ্গটি আলোচনা করব। তবে একথা মনে করার কোন কারণ নেই যে, বাংলার নবদ্বীপে চৈতন্য-ই প্রথম বৈষ্ণব ধর্ম প্রতিষ্ঠা করলেন।এটা তাঁর বহু শতাব্দী ধরে বাংলার ধর্মীয় জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিল। সেন রাজারা ছিলেন বৈষ্ণববাদ ঘেঁষা এবং সম্ভবত: তাঁরা জয়দেবের গীত গোবিন্দে লোক প্রিয়-কৃত রাধা কৃষ্ণ ভক্তির বিকাশের উপযোগী একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। রাধা কৃষ্ণ ভক্তিকে চৈতন্যের অনুসারীরা তাদের অন্যতম ধর্মীয় অনুপ্রেরণা-রূপে বিবেচনা করেন। চণ্ডীদাসের শ্রী কৃষ্ণ কীর্তন, তার সুরেলা পদাবলী এবং মিথিলার বিদ্যাপতির পদাবলীতে বাংলায় লোকপ্রিয় বৈষ্ণববাদের ধারা প্রকাশ পায়। পর্যালোচনাধীন সময়কালে চৈতন্য এটাকে বাস্তবরূপ দান করেন যা তখন পর্যন্ত এর ছিল না।১৩ আগে ‘বাংলায় সেন বংশীয় রাজাদের আমলেই বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম কিছুটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দাক্ষিণাত্যে রামানুজ সৃষ্ট ‘শ্রী’ সম্প্রদায় এবং বিশিষ্টা-দ্বৈতবাদ তার আগেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। সেন-রাজারা কানাড়া থেকে বঙ্গে এসেছিলেন। এমন-ও হতে পারে যে, তাঁরাই দাক্ষিণাত্য থেকে নতুন বৈষ্ণব মতাদর্শ বঙ্গে নিয়ে আসেন’।১৪ তবে বাংলায় বৈষ্ণব ধর্ম আগমনের কারণ এখানে আলোচ্য নয়, পঞ্চদশ শতাব্দীর চৈতন্য ও তাঁর বৈষ্ণব ধর্মের নেতৃত্বে যে আন্দোলন বা জাগরণ সূচিত হয় তা বাঙালী জীবন ও জীবনধারাকে অনেকাংশে বদলে দেয়। প্রথমত: আমাদের একটু হলেও আলোচনা দরকার যে, কেন এই আন্দোলন এবং সেই সময়কার হিন্দু সমাজের কি এমন অবস্থা ছিল যার পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, তা ছাড়া ইউরোপ ও বাংলার উনিশ শতকের জাগরণের নিরিখে এই জাগরণের গুরুত্ব-ই বা কত টুকু।
চৈতন্যের তিরোধানের পর তাঁর জীবনীকাররা আমাদের বলতে চেয়েছেন যে, তাঁর আগমনের বা আবির্ভাবের একটা সামাজিক কারণ ছিল। সেই সময় হিন্দু সমাজের নৈতিক বাঁধন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এবং এর জায়গায় নব্য স্মৃতি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। এই নব্য ন্যায়ের উদ্ভাবক ছিলেন মিথিলার পণ্ডিত উদয়নাচার্য। তিনি-ই নব্য ন্যায়কে বাংলায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। এই নব্য ন্যায়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করার পেছনে অবশ্য-ই কিছু কারণ ছিল।
তদানীন্তন সমাজে এ কথাই প্রচলিত ছিল যে, ইসলামের আগমনের ফলেই হিন্দু সমাজে নানারকমের সংকট দেখা দিয়েছে, এবং এর জন্যেই নব্যস্মৃতি প্রচলনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। একথা ঠিক যে, বাংলায় ইসলামের আগমনের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ইসলামের উদারতা জাতি বর্ণ বিভাজিত হিন্দু সমাজে কিছুটা গতি ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এনেছিল। একথা ভেবে নেওয়ার কোন কারণ নেই যে, ইসলাম এখানকার ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত নিয়মের কোন বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছিল, একথা সত্য।১৫ তাছাড়া এ ব্যাপারে অধ্যাপক নুরুল হাসান বলেছেন মুসলিমরা ভারতে আসার পর তারা প্রাথমিক ভাবে একটা সংকটের মধ্যে পড়ে, শরিয়ত আইনের যে চারটি মতধারা আছে হানাফি, শাফাই, হানবলি এবং মালিকি এটাকেই সর্বসম্মত ভাবে মেনে নেওয়া হয়েছিল, সুতরাং ভারতে আসার পর আর নতুন কোন ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব না হওয়াতে সুলতানরা নতুন কোন বিধি বা নিয়ম এখানে চালু করে নি। ফলত: তারা শাসনের ব্যাপারে সমাজের গভীরে প্রবেশ করা বা কোন পরিবর্তনের কথা ভাবে নি বা ভাবাটা সম্ভবও ছিল না।১৬ ‘এ সকল বিষয় থেকে সিদ্ধান্ত করা যায় যে, বর্ণ বিভাগের কঠোরতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বর্ণজাতি ভিত্তিক বিচ্ছিন্নতা, হিন্দু মুসলমান অভিজাতদের স্বার্থপরতা এবং ঐহিকতা, বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্রে নব্য-ন্যায়ের শুষ্কতা, চৈতন্যের আবির্ভাবের মুহূর্তে বাঙালী সমাজে একটি মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করেছিল। প্রচলিত বিবিধ ধর্মবিশ্বাসে সংকট থেকে পরিত্রাণ লাভের কোন যুক্তিগ্রাহ্য উপায় খুঁজে পাওয়া যায় নি। এই সংকটের কতকগুলি লক্ষণ মুসলমানদের আগমনের আগেই ঘনীভূত হয়। কাজেই, যাঁরা এই মনে করেন যে, মুসলমানদের বঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা লাভের ফলেই হিন্দু সমাজে সংকট দেখা দেয় এবং তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যেই চৈতন্য বৈষ্ণব ভক্তি আন্দোলন শুরু করেন, তাঁরা সমগ্র অবস্থাটির একটি আংশিক চিত্র আঁকেন। চৈতন্যের মধ্যকালীন জীবনীসমূহে মুসলমানদের-ও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে হিন্দুদের নানারকমের দুর্বলতার উপরে’। ১৭
পঞ্চদশ শতকে চৈতন্যের আন্দোলনের সামাজিক অবদান কি? ই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে আমাদের বলতে হয় যে, উনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় যে, রেনেসাঁ বা নবজাগরণ এসেছিল তার প্রায় তিনশো বছর আগে নবদ্বীপে চৈতন্য দেবের আবির্ভাবের ফলে ধর্ম ও সংস্কৃতিতে যে জনজাগরণের সৃষ্টি হয়েছিল তাকে অনেকেই রেনেসাঁ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, বা অন্যভাবে বলা যায় যে, উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত ছিল ‘চৈতন্য রেনেসাঁ’, অনেক ক্ষেত্রে উনিশ শতক থেকে তা অনেকটাই এগিয়ে ছিল। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকার বলেছেন ‘ The Renaissance which we owe to English rule early in the nineteenth century had a precursor a faint glimmer of dawn no doubt, two hundred and fifty years earlier.’ ১৮ পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যযুগের বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির উপর চৈতন্য আন্দোলন ও চৈতন্যবাদের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। আবেগপ্রবণ উপাসনা পদ্ধতির উপর চৈতন্য জোর দিয়েছিলেন এবং এটা বৈষ্ণববাদকে অতিরিক্ত আকর্ষণ দান করেছিল। বৈষ্ণববাদের সঙ্গে চৈতন্যের নাম ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়লেও তিনি এই সম্প্রদায়ের জন্যে কোন ধর্মতাত্ত্বিক বা দার্শনিক তত্ত্ব তৈরি করেন নি, অর্থাৎ অন্যান্য রেনেসাঁর মত জ্ঞান-তাত্ত্বিক বাচন নির্মিত হয় নি, যা সাধারণের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। সম্ভবত: ‘শিক্ষা-ষ্টক’ বা আটটি শিক্ষা ছাড়া তিনি কোন ধর্মীয় গ্রন্থও রচনা করেন নি। অনুভূতির গভীরতা ও বৈষ্ণবীয় নম্রতা এবং দেবতার ইচ্ছার কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতি ভক্তের মনোভাব নির্দেশকারী বৈশিষ্ট্যমন্ডিত চৈতন্যের সরল ভক্তিবাদ প্রকাশ করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য, এবং প্রবল আবেগে কৃষ্ণ-প্রেম হচ্ছে চৈতন্যের ধর্মের মূল নীতি। তার এই আন্দোলন শুধু বাংলা ও উড়িষ্যায়ই নয়, সম্ভবত: ভারতের অন্যান্য কিছু অঞ্চলেও বহুল পরিচিতি করে তুলেছিল।
বাংলায় চৈতন্যের আবির্ভাবের ফলে এক অখণ্ড বঙ্গ সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত মুসলমান শাসনে হিন্দু মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করলেও দু সংস্কৃতির অখণ্ড মেলবন্ধন হয় নি। এই আন্দোলন মানুষের মধ্যে সহনশীলতা আনতে পেরেছিল। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের আত্মপ্রকাশের ফলে শিল্পকলার নানাবিধ বিকাশ লক্ষ্য করা যায়, বিভিন্ন শিল্পকলার নিদর্শনে চৈতন্যের জীবনালেখ্য নানাভাবে স্থান করে নেয়। বিভিন্ন সময় এই জাতিয় মানুষের আগমনের ফলে এশিয়া ও ইউরোপে বুদ্ধ ও যীশু বিভিন্ন শিল্পীদের তাদের নানাবিধ সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করেছে। ‘আলোচ্য পর্বে বাংলায় চৈতন্য-ও হয়ে উঠেছিলেন এক অন্যতম রূপকল্প, যে উদাহরণ আমারা দেখতে পাই বাংলার গ্রামে গঞ্জে বিভিন্ন মন্দির, দেবালয়ে স্থাপত্য ভাস্কর্যে’।১৯
ষোড়শ শতাব্দীর এই জাগরণের ফলে বাংলার সংস্কৃতি এক বহুমাত্রিক রূপ পায়। চৈতন্যর জীবদ্দশাতেই তিঁনি তাঁর ভক্তদের দ্বারা পূজিত হতে থাকেন। নানা জায়গায় চৈতন্য বিগ্রহ আবার কোথাও বা গৌর নিতাই বিগ্রহ নির্মিত হয়। দারূমূর্তি নির্মাণে দারুশিল্পীদের কলা কৌশল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। বাংলার বহু মন্দিরে বিশেষত: বিষ্ণুপুরের মন্দিরগুলিতে কৃষ্ণলীলা ও চৈতন্য-লীলা অবলম্বনে টেরাকোটা ভাস্কর্য ফলক উপস্থাপিত করা হয়েছে। মধ্যযুগে ইসলামের শাসনে মূর্তি নির্মাণ শিল্প প্রায় বন্ধ হয়ে গেছিল, ধাতু ও পাথরের মূর্তি নির্মাণে আবার আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেল। ‘এই আন্দোলনে সংকীর্তন বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ায় সংকীর্তনের উপযোগী বাদ্য যন্ত্র যেমন খোল, মৃদঙ্গ, করতাল ইত্যাদি নির্মাণের কাজ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়। অর্থনৈতিকভাবে মানুষ বেশ কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে, অর্থাৎ এই আন্দোলন সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছনোর এক অভিনব দিশা তৈরি করতে পেরেছিল।২০ এই আন্দোলন এক ঐশ্বর্যশালী বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের সৃষ্টি করেছিল, যাকে সামাজিক-ধর্মীয় তথ্যের ভাণ্ডার রূপে গণ্য করা যেতে পারে।
‘উনিশ শতকের নবজাগরণের মত চৈতন্য ঐতিহ্যশালী সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিকে যেমন বর্ণ প্রথা লোপ না করলেও তিনি তাঁর আবেগপ্রধান ধর্মকে বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সকল লোকের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। এই সর্বজনীন মনোভাব ছিল গোঁড়া ব্রাহ্মন্যবাদের মূলনীতির প্রবলভাবে বিপরীতধর্মী। এটা তখনকার দিনে একটা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিপ্লবের পর্যায়েই পড়ে’। ২১
বৈষ্ণব আন্দোলন নারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদানে এক অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল। এ সম্পর্কে ‘ও কোনেল’ তাঁর গ্রন্থে বলেছেন ‘ when we do consult the available sources to learn what was happening in the social life of devotees of Chaitanya we find that while the proclamation of Chaitanya’s divine zeal to rescue women, shudras and especially sinners is conspicuous, there is little or no interest in showing how women or shudras (or sinners) had their social or economic status raised by virtue of divine grace and bhakti. The question of practical or mundane social uplift or liberation from oppressive economic conditions just does not arise. One can, however, gather some information indirectly from what is said and not said, for instance about women, in the literature, especially the somewhat garrulous hagiographical texts.” ২২ চৈতন্যের আন্দোলনে স্ত্রী লোকেরা রান্নাঘরের বাইরে এলেন, সাক্ষর হলেন, এবং গুরু পর্যন্ত হলেন। বাংলার সামাজিক ইতিহাসে এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমারা এই সময় তেরোজন সুশিক্ষিত এবং প্রভাবশালী স্ত্রী-গুরুদের আবির্ভাব দেখি। তাদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন নিত্যানন্দের দ্বিতীয়া স্ত্রী জাহ্নবী দেবী, অদ্বৈত আচার্যের পত্নী সীতা দেবী এবং শ্রীনিবাস আচার্যের কন্যা হেমলতা ঠাকুরানী। এঁদের বহু শিষ্য ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কোলকাতায় সিমলা অঞ্চলে ‘মা গোসাই’ মধুমতী দেবী নিত্যানন্দের বংশীয় এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী। অনেক বৈষ্ণবী লেখাপড়া জানতেন।‘জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে অনেক বৈষ্ণবী এসে মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতেন। মোট কথা বলা যায় যে সাক্ষরতা বিস্তারে নিম্নজাতীয় বৈষ্ণবীদের অবদান অবশ্য-ই উল্লেখযোগ্য।২৩
ভক্তিকে স্মার্ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কোনভাবেই মানতে পারেন নি, বরঞ্চ বিরোধিতা করেছেন। বৈষ্ণব ব্রাহ্মণের সমতার কথা প্রচলিত হয়, সমাজতাত্ত্বিক পণ্ডিত শ্রীনিবাসের ভাষায় শূদ্রদের সামাজিক ঊর্ধ্বায়ন (sanskritisation) সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। শূদ্র বৈষ্ণব গুরুর ব্রাহ্মণ শিষ্য হয়, তারা মন্দির নির্মাণ করেন ও তার পৃষ্ঠপোষক হয়। বাংলায় প্রচলিত স্মার্ত ভাবাদর্শ বর্জন করে ভক্তিমূলক আধ্যাত্মিক গণতন্ত্র যা চৈতন্য চালু করলেন তা সকলে মেনেও নেয়। ভাবাবেগ-মথিত এই আন্দোলনে বাঙালীর সত্তা ও সংস্কৃতি নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করে।
চৈতন্যের ছিল অসামান্য আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, তিনি সকল সঙ্গী ও সহযোগীদের উপর ছিল সীমাহীন প্রভাব। তদানীন্তন স্মৃতি শাসিত সমাজে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে শুধু জনমুখী ও সর্বসাধারণের জন্য শুধু তত্ত্ব নির্মাণ-ই করেন নি, তাকে অনন্য সাহসের সঙ্গে প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন। অনেকে বলেন যে, তিনি ব্রাহ্মণ সন্তান হওয়ার ফলে তাঁর পক্ষে এই ভূমিকা পালন সম্ভব হয়েছিল। অব্রাহ্মণ হলে লোকে তার কথা মান্য করত না। কোন শূদ্র এই প্রচলিত সমাজের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলে তার ফলাফল অন্যরকম হোত, তার প্রমাণ ইতিহাসে আছে। চৈতন্য ব্রাহ্মণ ছিলেন বলেই অন্য ব্রাহ্মণরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রাহ্মণদের দলে টানতে পারেন নি। চৈতন্য এই অচলায়তনকে (প্রচলিত জাতি বর্ণ ব্যবস্থা) ভাঙতে না পারলেও তাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার দান করেছিলেন, এটা কম কথা নয়।
আমরা গত সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ বঙ্গ সন্তানের তালাস করতে গিয়ে নব্য যুগে বাংলার নবজাগরণ-কালে যে একগুচ্ছ মনীষীকে পাই তার শুরু, সম্ভবত: রাজা রামমোহন-রায়কে দিয়ে, শেষে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু। এর-ই মধ্যে থাকেন বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ-দেব, রবীন্দ্রনাথ এবং হয়ত বা অবনীন্দ্রনাথ। অন্যদিকে মধ্যযুগের যে বাঙালী ব্যক্তিত্ব আজ-ও চির উজ্জ্বল তাঁরা নিশ্চয়ই চৈতন্যদেব, কাশীরাম দাশ ও কৃত্তিবাস ওঝা। ‘এঁদের মধ্যে যে বাঙালীটি আপামর জনসাধারণের কাছে পরোক্ষে বা প্রত্যক্ষে প্রতিভাসিত, তিনি চৈতন্যদেব। তিনিই বাঙালির জাতিয় চরিত্রের বিশেষত্বকে নির্দেশিত করে দিয়েছেন। তাঁকে কেন্দ্র করে বাঙালি সংস্কৃতিতে এক মহৎ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এই প্রতিষ্ঠা অন্য কোন বাঙালির ভাগ্যে এখন-ও জোটে নি। আধুনিক বাঙালি চৈতন্যদেবকে বড় ছোট জায়গায় বেঁধে ফেলেছে। বড়কে ছোট করা আধুনিক শিক্ষিত বাঙালির ধর্ম। ছোটকে বড় করা চৈতন্যের ধর্ম। সে ধর্মের নাম বৈষ্ণব ধর্ম। সংস্কৃতি হচ্ছে একটা জাতির চিত্ত বিকাশ। সে বিকাশ হয় মানবিক কর্তব্যে, সাহিত্যে, সংগীতে, শাস্ত্রে, সমাজ-সংস্কারে, শিল্পে, ব্যক্তি চরিত্রের ঔজ্জ্বল্য, নব ধর্মে ও জীবনমুখিনতায়। উনবিংশ শতাব্দীতে অনেকের সাধনায় যে সংস্কৃতির বিকাশ, মধ্যযুগে তা প্রধানত: চৈতন্যদেবের দ্বারাই হয়েছিল। চৈতন্য বাঙালিকে জাগিয়েছিলেন নব জীবনবোধে। সে জীবন মুক্ত হয়েছিল সাহিত্যে-গানে-ধর্মে-শাস্ত্রে। সে জীবনের মূল কথা ছিল প্রেম বা ভালোবাসা। সে প্রেম সর্বজীবে। এই ভালোবাসার মধ্য দিয়ে চৈতন্য বাঙালির আত্মগৌরব প্রতিষ্ঠা করলেন। বাঙালি স্ব-মহিমায় জাগ্রত হোল। এই হোল যথার্থ বঙ্গ সংস্কৃতি। এর এক প্রান্তে চৈতন্য, অপর প্রান্তে রবীন্দ্রনাথ।
তথ্য সূত্র
১। Eugene F. Rice, jr. Anthony Grafton
The foundation of early Modern Europe, 1460-1559, 2nd Ed, 1994, Page-78-79
২। উইল ডুরান্ট-দর্শনের ইতি কাহিনী, আবুল ফজল অনূদিত,বংলা একাডেমি, ১৯৮০, ঢাকা।পৃষ্ঠা- ১৬৪
৩। শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়-ইতালীয় রেনেসাঁসের কয়েকটি মিথ- ইতিহাস অনুসন্ধান- ৭ম খন্ড, ১৯৯৩।
৪। Rice and Grafton, Page- 82
৫।উইল ডুরান্ট- দর্শনের ইতি কাহিনী,বাংলা একাডেমি, ঢাকা।, পৃষ্ঠা, ১৬৭
৬। ঐ
৭। অমলেশ ত্রিপাঠি-ইতালির রেনেসাঁস ও বাঙালীর সংস্কৃতি, পৃষ্ঠা-১৬
৮। Benson Pamela Joseph- The invention of the Renaissance women: The challenge of female independence in the literature and thought of Italy and England. The Pen Sylvania state University Press. 1992, Page-84-85
৯। বিনয় ঘোষ-বাংলার নব জাগৃতি, ১৯৭৯, পৃষ্ঠা-২৬
১১। সুশোভন সরকার-বাংলার রেনেসাঁসের মধ্যেকার সংঘাত, প্রথম প্রকাশ- Bengal Past & Present, Golden Jubilee Issue, 1967, পুনঃপ্রকাশ- অনীক : বাংলার রেনেসাঁস সংখ্যা (এপ্রিল-মে ১৯৮৩), পৃষ্ঠা-৭
১২। বহরমপুর সংস্কৃতি পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলার রেনেসাঁস’ আলোচনা চক্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে (১৫ই অক্টোবর, ১৯৮২) অধ্যাপক বরুণ দে-কৃত আলোচনা, পুনঃ-প্রকাশ : অনীক: বাংলার রেনেসাঁস সংখ্যা (এপ্রিল-মে, ১৯৮৩), পৃষ্ঠা-৫৩
১৩। মমতাজুর রহমান তরফদার-হোসেন শাহি আমলে বাংলা,(১৪৯৪-১৫৩৮) একটি সামাজিক রাজনৈতিক পর্যেষণা, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, পৃষ্ঠা-১৪৪
১৪। রমাকান্ত চক্রবর্তী-বঙ্গে বৈষ্ণব ধর্ম, ১৯৯৬, পৃষ্ঠা-১২
১৫। Tapan Roy choudhury & Irfan Habib Ed. The Cambridge economic History of India, Vol-I, Preface.
১৬। সৈয়দ নুরুল হাসান-মধ্যযুগের ভারতে রাষ্ট্র ও ধর্ম সংক্রান্ত কিছু সমস্যা,১৯৮৭ সালের ১লা মার্চ কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামীয় ইতিহাস বিভাগে প্রদত্ত ভাষণ (মধ্যযুগের ভারত-সংকলন, পশ্চিম বঙ্গ ইতিহাস সংসদ, ১৯৮৭), পৃষ্ঠা ২-৩
১৭। রমাকান্ত চক্রবর্তী-পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২৩-২৪
১৮। Jadunath Sarkar-History of Bengal, Vol-2, Page 220.
১৯। সুধী-রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়-ভারতীয় দর্শনে প্রস্থানে বৈষ্ণব সাধনার ধারা, পৃষ্ঠা-৪৫
২০। যজ্ঞেশ্বর চৌধুরী-যুগ-স্রষ্টা শ্রী চৈতন্য, পৃষ্ঠা ১৯৩
২১। Joseph T. O’connell- Religious Movements and social structure: the case of Chaitanya;s Vaisnavas of Bengal, IIAS, Shimla,1993, Page-18
২২। Joseph T. O’ Connell- পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃষ্ঠা- ১৮
২৩। পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা- ১৯
২৪। সাধন দাশ-গুপ্ত, সম্পাদনা, মহাপ্রভু চৈতন্য, ২০০৩, পৃষ্ঠা, vii.
Comments
Post a Comment